মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক নিয়ে উদ্বেগ

বিদ্যমান কাঠামোকেই কার্যকর মনে করছে উন্নয়ন সংগঠনগুলো

বাংলাদেশে প্রস্তাবিত মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন উন্নয়ন সংগঠন। তারা জানিয়েছে, বিদ্যমান এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাঠামো দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর ও নিরাপদ। নতুন ব্যাংক কাঠামো চালু হলে দরিদ্রবান্ধব অর্থায়নে নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সংগঠনগুলো বলছে, দেশের মাইক্রোক্রেডিট খাত কোনো প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে ওঠেনি। এটি একটি সামাজিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বিকশিত হয়েছে। ঋণের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও নারীর ক্ষমতায়নকে যুক্ত করে যে সমন্বিত সেবা দেয়া হয়, তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি মডেল। এ বাস্তবতায় ব্যাংকভিত্তিক কাঠামো চাপিয়ে দিলে খাতটির মৌলিক চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো এবং বিদেশী দাতা সংস্থার তদারকির মধ্যেই এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। সংগঠনগুলোর দাবি, বিদেশী তহবিল কমেনি, বরং স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার কারণেই আন্তর্জাতিক আস্থা তৈরি হয়েছে।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম জানিয়েছেন, মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক চালু হলে বিদেশী অর্থায়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এতে একটি অনিশ্চিত কাঠামো গড়ে উঠবে, যা দরিদ্রবান্ধব অর্থায়নের ধারাবাহিকতায় বাধা সৃষ্টি করবে।

বিডি সিএসও প্রসেসের সচিবালয় সমন্বয়কারী মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, প্রস্তাবিত কাঠামোতে প্রতিযোগিতা অসম হয়ে পড়তে পারে। ব্যাংক সনদের কারণে নতুন প্রতিষ্ঠান সহজ শর্তে ঋণ ও আইনি সুবিধা পাবে, যা এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

সংগঠনগুলো ছোট ও মাঝারি এনজিওগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানই গ্রাম ও প্রান্তিক এলাকায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দুর্যোগে প্রথম সাড়া দেয়। ব্যাংক কাঠামো চালু হলে এসব সামাজিক সেবাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিবৃতিতে ব্যাংক কোম্পানি আইনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। অর্থ পাচার, খেলাপি ঋণ ও একাধিক ব্যাংকের সংকট দেখিয়েছে, ব্যাংকিং মডেল সব খাতে কার্যকর নয় বলে মনে করছে সংগঠনগুলো।

তাদের দাবি, খাতটির প্রকৃত সমস্যা যেমন আত্মসাৎ, তথ্যের পুনরাবৃত্তি ও স্বল্প পুঁজি মোকাবেলায় নতুন ব্যাংক নয়, বরং বিদ্যমান এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ কাঠামোর সংস্কারই যথেষ্ট।

সংগঠনগুলো জানায়, এ অবস্থান তৃণমূল বাস্তবতার প্রতিফলন। বিডি সিএসও প্রসেসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দেশের ৫৪৫টি স্থানীয় এনজিও। পাশাপাশি ইক্যুইটিবিডির নেটওয়ার্কে রয়েছে ৭০টি অংশীদার সংগঠন, যারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরছে।

—বিজ্ঞপ্তি

আরও